স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঘন ঘন ঝটিকা মিছিল নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত তিন দিনের ব্যবধানে নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক মিছিল করেছে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। এসব ঘটনায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-যুবকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তা-শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (৩ জুন) সকালে চট্টগ্রামের কুয়াইশ অক্সিজেন এলাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ সড়কে ঝটিকা মিছিল করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে সড়ক প্রদক্ষিণ করছেন। তবে মিছিল শেষ হওয়ার আগেই তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।
এর আগে গত ১ জুন চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অন্তত চারটি মিছিল করেছে নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত মিছিলটি হয় নগরের জিইসি মোড় এলাকায়। ওই দিনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জিইসি মোড়ের মিছিলটি মূলত ওমরগণি এমইএস কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আয়োজন করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের বিপরীত পাশ থেকে মিছিলটি জিইসি মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় মিছিলকারীরা ‘জয় বাংলা’, ‘শেখ হাসিনা আসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলে শতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে ‘এমইএস কলেজ ছাত্রলীগ’ লেখা ছিল। মিছিলটি দুই নম্বর গেট এলাকার আশপাশ থেকে শুরু হয়ে অল্প সময়ের মধ্যে শেষ করা হয়।
একই দিন সকাল আটটার দিকে আনোয়ারা উপজেলার পিএবি সড়কের চাতরী চৌমুহনী এলাকাতেও ছাত্রলীগের আরেকটি মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দেড় মিনিটের ওই ভিডিওতে কয়েক ডজন নেতা-কর্মীকে সড়কে মিছিল করতে দেখা যায়। এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন এলাকায় আরও দুটি ছোট আকারের মিছিল হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
১ জুনের মিছিলগুলোর বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম সেদিন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাইনি। তবে ঘটনার ভিডিওগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে।”
তবে ওই ঘটনার দুই দিন পর আবারও নগরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল দেখা যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী ও তরুণ কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও প্রকাশ্যে মিছিল করতে পারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। তাদের দাবি, বারবার এমন কর্মসূচি সংগঠনটির মাঠে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের ধারাবাহিক প্রকাশ্য কর্মসূচি শুধু প্রশাসনের জন্যই নয়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
চট্টগ্রামে পরপর কয়েকটি ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন এসব ঘটনার বিরুদ্ধে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।