স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি সংযোজনের পর চলমান পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে একটি কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ায় সাময়িকভাবে পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি একটি সীমিত পরিসরের প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং তা সমাধানে কাজ চলছে। ত্রুটি দূর হওয়ার পর দ্রুতই কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিচালিত ‘কোল্ড রান’ পরীক্ষার সময় শুক্রবার সিস্টেমে চাপ প্রয়োগের পর্যায়ে একটি কারিগরি অসঙ্গতি শনাক্ত হয়। এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
রূপপুর প্রকল্পের গণমাধ্যম সমন্বয়কারী কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ বলেন, পরীক্ষার সময় ত্রুটিটি ধরা পড়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মেরামতকাজ চলছে এবং সমস্যা সমাধান হলেই সিস্টেমের কার্যক্রম আবার শুরু করা হবে।
প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি নির্মাণকাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম, তবে সংস্থাটির জনসংযোগ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন কোনো পারমাণবিক কেন্দ্র চালুর আগে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে এ ধরনের ছোটখাটো ত্রুটি পাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কমিশনিং বা প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে বিভিন্ন কারিগরি বিষয় সামনে আসে। এসব সমস্যা সমাধান করেই ধাপে ধাপে কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন পর্যায়ে নেওয়া হয়। তাই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই।
গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি সংযোজন শুরুর মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালন পর্যায়ে প্রবেশ করে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে রিঅ্যাক্টরের কেন্দ্রে ১৬৩টি জ্বালানি সমাবেশ স্থাপন সম্পন্ন হয়।
সৈকত আহমেদ বলেন, জ্বালানি সংযোজনের পর বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য সব ধরনের ত্রুটি শনাক্ত ও সমাধান করা যায়। সবকিছু সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা হবে।
এর আগে জ্বালানি সংযোজনের আগেও রিঅ্যাক্টরের শীতলীকরণ পাম্পে একটি কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছিল। পরে তা মেরামতের পর পুনরায় পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ওই ঘটনার কারণে প্রকল্পের সময়সূচিতে কয়েক সপ্তাহের বিলম্ব হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে শুক্রবার পাবনার ঈশ্বরদীতে এক সেমিনারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, চলতি বছরের আগস্টের শেষ নাগাদ রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে সরকার আশা করছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময়ে নতুন এই কারিগরি ত্রুটি নিয়ে কিছু প্রশ্ন তৈরি হলেও প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশ সফররত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার বিশেষজ্ঞ দল বিষয়টির প্রকৃতি সম্পর্কে অবগত রয়েছে।
তাদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং পর্যায়ে এ ধরনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ স্বাভাবিক। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই পরীক্ষা ও যাচাই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।