স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পরিচালিত একটি গোপন অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে ১০০ মিলিয়নের বেশি ব্যারেল তেল এবং ২০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছেছে।
বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প প্রথম এ বিষয়ে ইঙ্গিত দেন। পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মাসে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে একটি গোপন মিশনের দায়িত্ব দেন, যার উদ্দেশ্য ছিল তেলবাহী ট্যাংকার ও অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি নিরাপদে অতিক্রম করতে সহায়তা করা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “এই প্রচেষ্টার ফলে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ২০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, অভিযানের সময় ইরান এ বিষয়ে কিছুই জানত না। ওভাল অফিসে তিনি বলেন, সম্প্রতি ২২টি জাহাজকে গভীর রাতে কোনো আলো ব্যবহার না করে প্রণালিটি অতিক্রম করানো হয়েছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, “আমরা মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যারেল তেল বের করে এনেছি। ইরান বিষয়টি বুঝতেই পারেনি। এক রাতে ২২টি জাহাজ পার করা হয়েছে। তাদের রাডার কার্যত অকার্যকর ছিল।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, এ ধরনের অভিযানের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে এবং তেলের দামও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার ভাষায়, এসব উদ্যোগ না থাকলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারত, যা বর্তমানে ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে রয়েছে।
বুধবার বিকেলে দেওয়া আরেক পোস্টে ট্রাম্প এই অভিযানের সাফল্যের কৃতিত্ব মার্কিন নিয়ন্ত্রণকে দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালির কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে বলেই এ ধরনের কার্যক্রম সম্ভব হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের দাবি করা তেলের পরিমাণ, জাহাজের সংখ্যা কিংবা অভিযানের সামগ্রিক পরিধি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানিয়েছে, এসব দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ সামরিক এসকর্ট মিশন ছিল না; বরং জাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ নৌপথ সম্পর্কে তথ্য ও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছিল। এ প্রক্রিয়ায় জাহাজগুলো মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদ রুট সম্পর্কে তথ্য পেত।
প্রথমে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এ ধরনের সমন্বয় কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশ করে। পরে এবিসি নিউজও ওই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসের শেষ নাগাদ প্রায় ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই ব্যবস্থার আওতায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।
এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক জাহাজ তাদের অবস্থান শনাক্তকারী ট্রান্সপন্ডার সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ওভাল অফিসে ট্রাম্প জানান, এতদিন তিনি বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন যাতে অভিযান ব্যাহত না হয়। তবে ইরান ইতোমধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছে বলে মনে করায় এখন তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলছেন।
তার ভাষায়, “এখন আমি বিষয়টি জানাতে পারছি, কারণ তারা ইতোমধ্যে ব্যাপারটি বুঝে গেছে। মিশন চলাকালে আমি এটি প্রকাশ করতে চাইনি। যদিও বিষয়টি গোপন রাখা আমার জন্য সহজ ছিল না।”