স্টাফ রিপোর্টার। ক্রাইম ক্রনিকল
শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কালু বাহিনীর সর্দার ইব্রাহিম হোসেন কালু (৩০) ওরফে বস্তি কালু/ কালু ডাকাত এর অত্যাচারে অনেকদিন ধরেই বরগুনার সদর উপজেলার ১নং বদরখালী ইউনিয়নের জনগণ ছিল অতিষ্ঠ । কালুর বিরুদ্ধে রয়েছে ছিল মাদক ব্যবসা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, গ্যাং চালনা, কোপানোসহ অসংখ্য অভিযোগ।

তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে। পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন অসংখ্যবার। ২০২৫ সালে ঢাকায় র্যাবের হাতেও আটক হন কালু ডাকাত। কিন্তু কিভাবে যেন প্রতিবারই আইনের ফাঁক গলে বের হয়ে যেতেন তিনি।
মাত্র ২-৩ দিন আগেই জামিনে বের হন তিনি। এর পরপরই এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রসহ মহড়া দিতে দেখা যায় কালুকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার ( ১২ জুন) দুপুরের দিকে এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসা ছিলেন ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তফা মেম্বার। এমন সময় কালু ডাকাত ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন। তারপর কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন মোস্তফা মেম্বারকে।
এরপর আহত ব্যক্তিকে তাড়াতাড়ি বরগুনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে অবস্থা আশংকাজনক দেখে তাকে বরিশাল রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এরপর এম্বুলেন্স যোগে মোস্তফা মেম্বার কে বরিশাল নিয়ে যাওয়া হয়।
ইউপি সদস্যের ওপর হামলার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। গ্রামবাসী একজোট হয়ে সন্ত্রাসী কালু ও তার সহযোগীদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে পাতাকাটা গ্রামে কালু ও তার সহযোগী তৌহিদকে ঘেরাও করে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা। এতে ঘটনাস্থলেই কালুর মৃত্যু হয় এবং তৌহিদ মারাত্মকভাবে আহত হয়। উল্লেখ্য, কালুর লাশে ভয়াবহ অনেক কোপের চিহ্ন পাওয়া যায় তার বাম পা গোড়ালি থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে সন্ধ্যায় বরগুনা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ নিহত কালুর মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত তৌহিদকে উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে তৌহিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত কালু এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী ছিল। ইউপি সদস্যের ওপর হামলার জের ধরে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।