নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী। 

ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের মাঝেই স্বামীর প্রতারণা আর ডিভোর্সের আঘাত সয়েও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন রাজশাহীর চারঘাটের উম্মে হাবিবা মিম। আজ তিনি আবার হাসছেন, স্বপ্ন দেখছেন বেঁচে ওঠার। যখন কেমোথেরাপি আর অনিশ্চয়তার মধ্যে মিম একা হয়ে পড়েছিলেন, ঠিক তখনই দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।


         মিমের যুদ্ধ শুরু। ক্রাউড ফান্ডিং শুরুর দিকের ছবি

ঘটনা শুরু হয় মিমের চিকিৎসা চলাকালীন। ব্লাড ক্যান্সারের কঠিন চিকিৎসার মাঝপথে তাঁর স্বামী তাঁকে ছেড়ে যান, ডিভোর্স দেন। শুধু তাই নয়, বিচ্ছেদের মাত্র ১৮ দিনের মাথায় তিনি দ্বিতীয় বিয়েও করেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিবারহীন হয়ে পড়েন মিম। চিকিৎসার খরচ, মানসিক ভাঙন আর একাকীত্ব— সব মিলিয়ে তাঁর সামনে ছিল ঘোর অন্ধকার।

মিমের এই কষ্টের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসে মানুষ। তাঁর প্রতি সহানুভূতি আর ক্ষোভ দুটোই ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুরু করে প্রবাসীরাও এগিয়ে আসেন সাহায্যের হাত নিয়ে। সাধারণ মানুষের পাঠানো এই অনুদান একত্র করে 'সুরুজ ফাউন্ডেশন'। ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে তোলা টাকা দিয়ে মিমের চিকিৎসার বড় অংশ মেটানো সম্ভব হয়েছে। সেই সহায়তায় মিমের শরীরে এখন উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মুখে ফিরেছে হাসি, মনে জেগেছে নতুন করে বাঁচার জোর।

তবে লড়াই এখনো শেষ হয়নি। চিকিৎসা পুরোপুরি শেষ করতে মিমের আরও প্রায় ৩ লাখ টাকা প্রয়োজন। ডাক্তারদের মতে, চিকিৎসা ধরে রাখলে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন।

দেশবাসীর ভালোবাসা আর সহযোগিতাই এখন মিমের সবচেয়ে বড় শক্তি। একা হয়ে যাওয়া সেই মেয়েটি আজ বলছে— “আমি হারব না”।