সিলেট প্রতিনিধি | ক্রাইম ক্রনিকল
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ:) ও হযরত শাহপরান (রহ:)-এর মাজারে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার দান-অনুদান জমা হলেও সেই বিপুল অর্থের কোনো সুস্পষ্ট হিসাব নেই। দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা এই আর্থিক অস্বচ্ছতার বিষয়টি এবার সরকারি সভায় প্রকাশ্যে এসেছে, যখন মাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদেমরা দৈনিক, মাসিক ও বার্ষিক আয়-ব্যয়ের কোনো গ্রহণযোগ্য হিসাব উপস্থাপন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।
বুধবার (১০ জুন) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এ ঘটনা ঘটে। সিলেট সিটি করপোরেশনের আবেদন এবং পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশনার আলোকে দুই মাজারের পরিচালনা কমিটি, মসজিদ ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, ওয়াক্ফ এস্টেট কর্মকর্তা এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই সভা ডাকা হয়। সভায় উপস্থিত প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, উভয় মাজার কর্তৃপক্ষ হিসাবের কোনো কাগজপত্রই দেখাতে পারেননি। সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা।

ছবিতে খাদেমদের সাথে আলোচনায় ডিসি সরোয়ার। ছবি: সংগৃহীত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি ভক্ত এই দুই মাজারে আসেন এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু ও খাদ্যসামগ্রী দান করেন। মাজারের বিভিন্ন স্থাপনা ও আয়বর্ধক উৎস থেকেও বিপুল রাজস্ব সংগৃহীত হয়। তবে সেই অর্থ কোথায় যায়, কীভাবে ব্যয় হয়, তার কোনো জনসম্মুখ বিবরণ কখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মাজারের আর্থিক অস্বচ্ছতার বিষয়টি নতুন নয়। ২০০৩ সালে শাহজালাল (রহ:) মাজারের বিখ্যাত গজার মাছের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যমে মাজারের বিপুল আয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সে সময় মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, দানের অর্থের একটি অংশ বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকারীদের ভরণপোষণে ব্যয় হয় এবং বাকি অর্থ রক্ষণাবেক্ষণে লাগে। কিন্তু সেই ব্যয়ের কোনো সুশৃঙ্খল হিসাব কখনো সামনে আসেনি।
সভায় সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কড়া নির্দেশ জারি করেন। তিনি বলেন, শাহজালাল ও শাহপরান কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নন, তারা সমগ্র সিলেটবাসীর গর্ব ও ঐতিহ্যের অংশ। এখন থেকে দুই মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রতি মাসে জেলা প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা, পার্কিং, পরিচ্ছন্নতা ও আধুনিক সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাজারসংলগ্ন মসজিদকে আধুনিক বহুতল মসজিদে রূপান্তর এবং নারী দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও তিনি তুলে ধরেন।