স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
সরকার দেশের উৎপাদিত মদের ওপর নতুন করে সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবিত কর কার্যকর হলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত প্রতি লিটার মদের দাম ৫০০ টাকা বা আরো বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অর্থবিলে এ সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন কর কাঠামোর আওতায় কেরুর উৎপাদিত দেশি ও বিদেশি—উভয় ধরনের মদের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করা হবে। ফলে বাজারে বৈধভাবে বিক্রি হওয়া মদের দাম লিটার প্রতি ৫০০ টাকা বা আরো বেশি পরিমাণে বেড়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মদের মূল্য বৃদ্ধি একদিকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে সহায়ক হলেও অন্যদিকে অবৈধ মদের বাজার সম্প্রসারণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অতীতে মদের দাম বৃদ্ধি বা সরবরাহ সংকটের সময় বিভিন্ন এলাকায় চোরাচালান ও নকল মদের ব্যবসা সক্রিয় হওয়ার নজির রয়েছে। এ ধরনের অবৈধ মদ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, বৈধ মদের দাম বৃদ্ধি পেলে সীমান্তপথে বিদেশি মদ চোরাচালান, ভেজাল মদ উৎপাদন এবং অবৈধ বিপণন চক্র সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কর আরোপের পাশাপাশি অবৈধ মদ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নজরদারি জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন এ কর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবটি জাতীয় সংসদে অনুমোদন পেলে আগামী অর্থবছর থেকেই কার্যকর হবে।
মদের ওপর কর বৃদ্ধি শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এর প্রভাব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও পড়তে পারে। তাই অবৈধ মদ উৎপাদন ও চোরাচালান রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।