নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্রাইম ক্রনিকল
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান আহমেদ প্রধান গত ১১ জুন রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে নিখোঁজ হন। তাঁর চাচাতো ভাই থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় তিনি অপহৃত হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
নিখোঁজের ২৩ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন জংশন এলাকায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা জিসানকে উদ্ধার করেন। তাকে প্রথমে লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উদ্ধারের পর জিসান দাবি করেন, তাকে গাড়িতে তুলে অপহরণ করা হয়েছিল।
তবে পুলিশের তদন্তে তাঁর অপহরণের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করেন তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা। কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, অপহরণের কোনো সত্যতা নেই — জিসান স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।
তদন্তে বেরিয়ে আসে আত্মগোপনের আসল কারণ। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ২৫ বছর বয়সি এক বিধবা নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় জিসানের। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গত ২০ মে দাউদকান্দিতে নিজের ভাড়া বাসায় তাকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে একই প্রলোভনে বারবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে থাকলে নারীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এরপর জিসান তাকে ওষুধ খাইয়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটান। নারীটি বিয়ের জন্য চাপ বাড়াতে থাকলে ১২ জুন বিয়ের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েও সেই দিনই ঘটনা ধামাচাপা দিতে আত্মগোপনে যান জিসান।
উদ্ধারের পর ওই রাতেই ভুক্তভোগী নারী দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানকে প্রধান আসামি করে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা, জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানো এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।