নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্রাইম ক্রনিকল
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা বলে দাবি করেছেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন।
শুক্রবার এক নারী কর্মী সংবাদ সম্মেলন করে সুজা উদ্দিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক সুবিধার প্রলোভন দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। একই ঘটনায় চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগকারী জানান, এ বিষয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও অভিযোগ করেছেন।

ছবিতে আরিফ মঈনুদ্দিন। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ফেসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহীত।
এর পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় আরিফ মঈনুদ্দিন অভিযোগটিকে ‘সাজানো ঘটনা’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, কোনো ধরনের ছবি, ভিডিও, অডিও, প্রত্যক্ষ সাক্ষী বা অন্য কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ ছাড়াই কেবল মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
ওই নেতা দাবি করেন, এনসিপি বর্তমানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সমালোচনার মুখে থাকায় দলটির বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর ভাষায়, “এনসিপি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দল। আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে দলটিকে ঘিরে নানা পক্ষের বিরূপ মনোভাব রয়েছে। ফলে দলের বিরুদ্ধে যেকোনো নেতিবাচক অভিযোগ দ্রুত আলোচনায় চলে আসে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনাটি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, গ্রুপিং এবং পদ-পদবিকেন্দ্রিক বিরোধের ফল। তাঁর দাবি, “কয়েকজন নেতা নিজেদের স্বার্থে দলের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ঘটনা তৈরি করা হচ্ছে।”
অভিযোগের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন দাবি করে তিনি বলেন, সেখানে কোনো আপত্তিকর আচরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন ব্যক্তি একসঙ্গে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন এবং অভিযোগকারী নারীও স্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। খাবারের বিলেও সাধারণ খাবারের উল্লেখ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ওই নেতা আরও বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ তৈরি করা সম্ভব, কিন্তু দলের বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে দায়িত্বশীল নেতারা সাধারণত এমন পথ বেছে নেন না। কয়েকজন সুবিধাবাদী ব্যক্তির কারণে পুরো দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।”
তিনি দলের ভেতরে ‘সুবিধাবাদী ও বিভেদ সৃষ্টিকারী’ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যারা নিজেদের অবস্থান রক্ষার জন্য দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে দ্বিধা করে না, তাদের কারণে দলের লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়।”
তবে যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে এখনো এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগকারী নারী কর্মীর অভিযোগ এবং দলের নেতার পাল্টা দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।