স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল


দুর্নীতির মামলায় বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে।

পুলিশ সদরদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গত ১২ জুন পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অবহিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সরকারি বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বর্তমানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন জেলায় বিপুল পরিমাণ জমি ও সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা অন্তত ৬১৩ দশমিক ৪১ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে প্রায় ৬০৫ দশমিক ৭৭ বিঘা জমি রয়েছে, যেগুলোর একটি বড় অংশ পূর্বে হিন্দু সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন ছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরাসরি ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরোক্ষ প্রভাব খাটিয়ে জমি অধিগ্রহণের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

দুদকের তথ্যমতে, বেনজীর আহমেদের উল্লেখযোগ্য সম্পদের বড় অংশ গড়ে ওঠে তিনি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-এর মহাপরিচালক (২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল) এবং পরে বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান (২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে। তার নিজ জেলা গোপালগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কও আলোচিত সম্পদগুলোর অন্যতম।

এর আগে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের খবর সামনে আসলেও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া বা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।