বিশ্ব ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
রাশিয়ায় হামলার পাল্টা জবাব দিতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে মস্কো। এতে অত্যাধুনিক 'ওরেশনিক' হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ কয়েকশত ড্রোন এই অভিযানে অংশ নেয়। হামলায় এখন পর্যন্ত ৪ জন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি ইউক্রেনীয় নাগরিক আহত হয়েছেন।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে জানা গেছে, গত রবিবার ভোরে কিয়েভে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো শহর। বিস্ফোরণের তীব্রতায় সেখানকার আবাসিক ভবনগুলো দুলতে থাকে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সবাইকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানালে বহু মানুষ কিয়েভের ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলার মূল কারণ ছিল রাশিয়ার ভূখণ্ড ও পূর্ব ইউক্রেনের রুশ দখলকৃত অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান ও হামলা। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সরাসরি জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত জবাব দিতেই এই পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে। চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে মস্কো তৃতীয়বারের মতো তাদের অত্যন্ত শক্তিশালী 'ওরেশনিক' ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। হামলার তীব্রতা সম্পর্কে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগেই দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, রাশিয়া আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে 'ওরেশনিক' ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালাতে পারে।
কিয়েভ শহরে মিলিটারির প্রধান প্রশাসক তিমুর তাকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, রাজধানী শহর ব্যাপকভাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে। এখন পর্যন্ত শেভচেঙ্কিভস্কি, দিনিপ্রোভস্কি ও পোদিলস্কিসহ অন্তত চারটি প্রধান স্থানে আঘাত হেনেছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে বিভিন্ন আবাসিক ভবনে আগুন লেগে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, কিয়েভ শহরে হামলায় ২ জন নিহত এবং ৫৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৩০ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর মিকোলা কালাশিঙ্ক নিশ্চিত করেছেন যে, রাজধানীর বাইরের এলাকায় রুশ হামলায় আরও ২ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় রাশিয়া আকাশ, সমুদ্র ও স্থলপথ থেকে একযোগে ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। যাকে আধুনিক সমরবিদ্যায় 'মাল্টি-ডোমেইন অপারেশন' বলা হয়। এই বিশাল আক্রমণ ঢেউয়ের মধ্যে ওরেশনিক হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ইস্কান্দার ও কিনঝাল এয়ার টু এয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং জিরকন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে এই হামলা প্রতিরোধ করেছে বলে জানা যায়। ইউক্রেনীয় বাহিনী আরো দাবি করেছেন যে, তারা ৫৪৯টি ড্রোন এবং ৫৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস বা জ্যাম (Jam) করে দিতে সক্ষম হয়। এছাড়া আরও ১৯টি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
কিয়েভে রাশিয়ার এই ভয়াবহ হামলার পর প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পোল্যান্ডের সেনাবাহিনী তাদের নিজস্ব আকাশসীমা, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলো নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে যুদ্ধবিমান ও সামরিক উড়োজাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় (হাই অ্যালার্ট) রেখেছে।